শ্বেতশুভ্র পাহাড় দাঁড়িয়ে, অতন্দ্র পাহারায় দেখো ওই
বরফ ঠান্ডা শরীর নিয়ে, ভারতের উত্তর সীমানা ধরে
কখনও হিমেল হাওয়া আনে, সাথে ভীষণ তুষার ঝড়
হিমবাহ নেমে আসে নিচে, বোঝার আগেই হঠাৎ করে
তারই মধ্যে নিয়মিত, সীমানা রক্ষা করে চলেছে ভাই
ভারতের সেনা দলে দলে, প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে
আমরা ঘুমোই নিশ্চিন্তে, দিনে হোক বা গভীর রাতে
তারা আছে জেগে, দফায় দফায়, ভারী রাইফেল হাতে ধরে।
অন্য আরেক সীমানায় দেখো, হয়ত আছে মরুভূমি
প্রচণ্ড গরম, ধুলোর ঝড়, নাক মুখ সব ঢেকে রেখে
সাথে নিয়ে জল মাপাঝোঁকা, চলেছে কঠিন দুর্গম পথে
আবার কোথাও জঙ্গল ভেঙে, বন্য প্রাণীর পাশে থেকে
যুদ্ধ পোতে, সমুদ্রের ঢেউ, আকাশে যুদ্ধ বিমান নিয়ে
যেখানে যতই বাধাটি আসুক, স্থির লক্ষে এগিয়ে চলা
দায়িত্ত্ব নিয়েছে নিজের এবং, দেশের লোককে বাঁচিয়ে রাখার
নানান দলের সেনানী তবু, সবারই শিক্ষা অতুল শৃঙ্খলা।
যুগ যুগ ধরে ভারতের এই, মহান উদার পুণ্যভূমি কে
আক্রমণ করে গেছে বর্বর, অশিক্ষিত বিদেশীর দল
নিজেদের দেশে যাদের ছিলনা, খাদ্য, সম্পদ বা সংস্কৃতি
যারা জানতো শুধু নৃশংসতা, ছল বল আর খলকৌশল,
হিন্দুস্থানের সব সীমানায়, স্থলে অথবা জলেতে হোক
করেছে হামলা, মেরেছে মানুষ, জায়গা দখল করে নিতে
ছোট বড় রাজা, লড়েছে দর্পে, বীর প্রজাদের সাথে নিয়ে
কখনও বিজয়ী, কখনও হেরেছে, আকস্মিক সেই আঘাতে।
ভারত করেনি হামলা কোথাও, ভারতের কাছে সব ছিল
লোকের মনে ছিল নম্রতা, শিক্ষা, করুণা, প্রেম, সন্তুষ্টিও
যুদ্ধে জিতেও, বিদেশী রাজাকে দয়া দেখাবার উদারতা
ভারতের রাজা পেরেছে শুধু, এ নজির আর নেই কোথাও
অন্যের ধন কেড়ে নেওয়া চুরি, উপদেশ ছিল ঋষি মুনিদের
প্রতিরোধ তাই করেছে ভারত, ছিনিয়ে নেবার করেনি চেষ্টা
ছড়িয়ে দিয়েছে জ্ঞানের আলো, কোনো ভেদাভেদ না করেই
যে কেউ এসেছে, নিয়ে গেছে ভরে, প্রাচীন অমূল্য সে সব বিদ্যা
খ্রিস্ট জন্মের পাঁচ ছ-শো বছর, আগেই বুদ্ধদেব মহাবীর
শিখিয়ে গেছেন অহিংসার বানী, মহামন্ত্র ভারত থেকে
ভালোবাসা দিয়ে মন জিতে নেওয়া, হানাহানি কিছু না করে
এই দেশ থেকে অনেক দেশে, লোকে সাড়া দিলো সেই ডাকে
তবু এলো সব অত্যাচারী, আরব, হুন, পাঠান, মোগল
গ্রীক, মোঙ্গল, ফ্রেঞ্চ, ডাচ, ডেনিস, পর্তুগীজ, ব্রিটিশ
লুটে নিল ধন, মরে দেশবাসী, কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই
পরে শুরু হলো প্রতিরোধের জিত, পরমেশ্বরের ছিল আশীষ।
আজও জেনো শেষ হয়নি কপট, হামলা করা দেশের সংখ্যা
শুধু, পরাক্রমী ভারতের আজ, তৈরি রয়েছে বীর সেনানী
চোরের মতন চুপিচুপি এসে, লুটে নিতে আর পারবেনা কেউ
সংগ্রামী দলের সশস্ত্র হাতে, সুরক্ষিত আজ দেশ জননী
তবে, দেশদ্রোহী, বিশ্বাসঘাতক, আজও আছে দেশের মধ্যে
পয়সার লোভে, নিজের লাভে, দেশ বিক্রি তারা করতে চায়
তাদের মুখোশ খুলে দেওয়া, খুব প্রয়োজন দেশের স্বার্থে
এক এক করে এদের খুঁজে, শুধরে দেওয়াই আজ বড় দায়।
লড়বে তুমি, লড়ব আমি, লড়বে যত দেশ ভক্তের দল
আর দেবো না সুযোগ তাদের, হানতে আঘাত বিদেশ থেকে
আধুনিক শিল্প প্রয়োগ করে, দেশেই হবে পরিকাঠামো
যুদ্ধ জাহাজ, উড়ো জাহাজ, অস্ত্র শস্ত্র, সব গড়তে হবে
দেশের যত বিদ্বানেরা, দেশের সুদক্ষ, যত কর্মচারী
একসাথে মিলে হাতে হাত দিয়ে, যেই না সবাই দাঁড়িয়ে যাবো
কোনো শত্রুর ক্ষমতা নেই, নজর তুলে কথা বলার
সেনানীর সাথে আমাদেরও, কোটি কোটি হাত বাড়িয়ে দেবো ।
আসছে সুদিন, ভারত আবার বিশ্ব গুরুর আসন পাবে
পাঁচ হাজার বছর আগে যেমন, ভারত সবার শ্রেষ্ঠ ছিল
বুদ্ধিতে আর শিল্প কাজে আমাদের কোনো তুলনা নেই
আমরা ছড়িয়ে দেবো আবার শান্তির আর জ্ঞানের আলো
জানি আমি এটা মনে প্রাণে, এ কোনো ফাঁকা আওয়াজ নয়
আমরা পারবো সবাই মিলে, এমন দেশটি গড়ে তুলতে
প্রতিজ্ঞা করি, দেশের ক্ষতি করবো না ভাই করবো না
এসো আজ সব দাঁড়িয়ে উঠি, " ভারত মাতার জয়” বলতে ।